রাণীনগরে অধ্যক্ষের ওপর হামলা, হাত-পা ভেঙে মোটরসাইকেলে আগুন

নওগাঁর রাণীনগরে অধ্যক্ষের হাত-পা ভেঙে মোটরসাইকেলে আগুন

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নওগাঁর রাণীনগরে অধ্যক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জিএম মাসুদ রানা জুয়েলের ওপর হামলা চালিয়ে তার এক হাত ও দুই পা ভেঙে গেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়েছে।

রাণীনগরের আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ে অধ্যক্ষের ওপর হামলার ঘটনা

রাণীনগরে অধ্যক্ষের ওপর হামলা,আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মাসুদ রানা জুয়েলকে প্রথমে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোববার রাতে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ জানান, মহাবিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কয়েকজন ভুক্তভোগী ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের পর তদন্তের ভিত্তিতে এবং ৫ আগস্টের পর মহাবিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় জিএম মাসুদ রানা জুয়েলকে প্রায় দুই বছর আগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

তবে দীর্ঘ সময় পর উচ্চ আদালতের আদেশে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ পান মাসুদ রানা। সেই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসানের নির্দেশে রোববার তিনি কর্মস্থলে যোগ দিতে আসেন বলে জানান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

সালাউদ্দীন আহম্মেদ বলেন, রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মাসুদ রানা অফিসকক্ষে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন লোক সেখানে এসে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায় এবং মারধর করে। একপর্যায়ে তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আরও পড়ুন

ষষ্ঠ স্ত্রীর ফোনে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে পুলিশ কর্মকর্তা-নারী উদ্ধার

তবে হামলাকারীদের পরিচয় জানাতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

হামলার শিকার মাসুদ রানা জুয়েলের ভাই প্রিন্স আহম্মেদ বলেন, তার ভাই কলেজে যোগ দিতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাকেও মারধর করেন। তাদের মারধরে মাসুদ রানার এক হাত ও দুই পা ভেঙে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, রোববার সকাল থেকে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভায় ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছ থেকে হামলার খবর পাওয়ার পর তিনি পুলিশ পাঠান। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, অধ্যক্ষকে মারধর এবং মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

ওসি জানান, সোমবার পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে মাসুদ রানা জুয়েলের স্ত্রী ও রাণীনগর শের-ই-বাংলা কলেজের প্রভাষক রোকসানা পারভিন জানান, নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্বামীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রোববার রাতে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রাণীনগরে অধ্যক্ষের ওপর হামলার ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। তবে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং হামলার কারণ কী, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে কলেজে যোগদান ও আগের বরখাস্তের বিষয়টি নিয়েও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য রয়েছে। এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ ও তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।