বদলগাছীতে এসআই প্রত্যাহার, আসামিকে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগ

নওগাঁর বদলগাছীতে আসামিকে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগ, এসআই প্রত্যাহার

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নওগাঁর বদলগাছীতে এসআই প্রত্যাহারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে তাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের দাবি, প্রথম দফায় আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে দায়িত্বে অবহেলার কারণে বদলগাছী থানার এসআই অসিত কুমারের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বদলগাছীতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে দ্বিতীয় দফায় গ্রেপ্তার

দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বদলগাছীতে এসআই প্রত্যাহার

পরে একই দিন দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করেন এসআই অসিত কুমার। গ্রেপ্তার রাকিবুল হাসান বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের আক্কেলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের উপজেলা সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে আদালতে একটি সিআর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করতে বদলগাছী থানার এসআই অসিত কুমার অভিযান পরিচালনা করেন।

পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে দায়িত্বে অবহেলার কারণে রাকিবুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ৯ সেপ্টেম্বর রাতেই এসআই অসিত কুমারকে প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

জামিনে মুক্ত ‘গরিবের ডাক্তার’ ডা. মিশু

তবে পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রত্যাহারের আদেশের পরও একই রাতের শেষভাগে এসআই অসিত কুমার রাকিবুল হাসানের বাড়িতে আবার অভিযান চালান। ওই অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে এসআই অসিত কুমার বলেন, প্রথমবার রাকিবুলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করার সময় তিনি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

অসিত কুমার আরও বলেন, তাকে টাকা নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। দ্বিতীয় দফায় তিনিই রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করেছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, প্রথম দফার অভিযানে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের কারণেই এসআই অসিত কুমারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অন্যদিকে এসআই অসিত কুমার দাবি করেছেন, আসামি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নিজেই পালিয়ে যান।

ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের দুই বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রথম দফায় আসামি কীভাবে পালিয়ে যান এবং সেখানে দায়িত্বে অবহেলা হয়েছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।

পরে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।