নওগাঁ সীমান্তে কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নওগাঁ সীমান্তে কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার

নওগাঁর পত্নীতলা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের দুটি প্রাচীন মূর্তি উদ্ধার করেছে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)।

গত ২৫ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে আগ্রাদ্বিগুন বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ২৫৮ এমপি থেকে প্রায় ৪০০ গজ ভেতরে রামচন্দ্রপুর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ টহল দল অভিযান চালায়।

ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার মোঃ হাচানুর রহমান এর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা মূর্তিগুলো ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিষ্ণু মূর্তি (ওজন ৩৭.৯৭০ কেজি) এবং একটি আংশিক ভাঙা পার্বত্য মূর্তি (ওজন ১৪.৯২০ কেজি) উদ্ধার করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলো ১১-১২ শতকের উচ্চমানের কষ্টি পাথরের তৈরি মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এ বিষয়ে স্থানীয় পত্নীতলা জুয়েলারি সমিতির অভিজ্ঞ কর্মকার এবং পাহাড়পুর জাদুঘর-এর কাস্টোডিয়ান মতামত প্রদান করেন।

বিজিবি জানিয়েছে, নওগাঁ ও জয়পুরহাট সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ পারাপার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কষ্টি পাথরের এ ধরনের প্রাচীন মূর্তি শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এগুলো দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ব্যাপক চাহিদা থাকায় চোরাকারবারীরা প্রায়ই এগুলো পাচারের চেষ্টা করে থাকে।

এই ধরনের উদ্ধার অভিযান দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হলে প্রত্নসম্পদ পাচার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।

সচেতন মহল মনে করছে, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং প্রশাসনের নিয়মিত তৎপরতা থাকলে এসব ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন সংরক্ষণ করা আরও সহজ হবে।