আত্রাইয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, শুরু তদন্ত

আত্রাইয়ে গাইড বই দিয়ে আঘাত, নাক ফাটল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর

নওগাঁর আত্রাইয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ক্লাস চলাকালে গাইড বই দিয়ে আঘাত করে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. তাওসিনের নাক ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলার ক্ষিদ্র কালিকাপুর দাউদিয়া আলিম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোছা. তাওসিন ওই মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার বিচার চেয়ে তার বাবা মো. রেজাউল ইসলাম আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে মাদ্রাসায় ক্লাস চলাকালে সহকারী শিক্ষক মো. আকরাম সরদার তাওসিনকে মারধর করেন। এ সময় মুখমণ্ডলে আঘাত লাগার কারণে তার নাক দিয়ে রক্তপাত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাক ও চোখের সামনের অংশ ফুলে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এর আগেও ওই শিক্ষার্থীর হাতে মারধর করা হয়েছিল। তবে কী কারণে তাকে আগেও মারধর করা হয়েছিল, সে বিষয়ে অভিযোগে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

আত্রাইয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে তদন্ত শুরু

আত্রাইয়ে শিক্ষার্থীকে মারধর, বিচার চেয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ

মেয়েকে মারধরের ঘটনার বিচার চেয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তাওসিনের বাবা রেজাউল ইসলাম।

পরিবারের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় পরিবারের এক ভাতিজাকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তাওসিনের মা রাজিয়া সুলতানা বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে তার স্বামী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ দেওয়ার পর তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং তাদের ভাতিজাকেও মারধর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণা, সর্বস্ব হারিয়ে এখন ঘরছাড়া সাইফুল

তাওসিনের বাবা রেজাউল ইসলাম বলেন, মেয়েকে পড়াশোনার জন্য মাদ্রাসায় পাঠিয়েছেন। সেখানে শিক্ষকই যদি তাকে মারধর করেন এবং ঘটনার বিচার চাইতে গিয়ে তাদেরই হামলার শিকার হতে হয়, তাহলে তারা কোথায় যাবেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

রেজাউল ইসলাম অভিযোগ দেওয়ার পর তাদের বাড়িতে হামলা এবং ভাতিজাকে মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও তদন্তের দাবি করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এতে শিক্ষার্থীর ওপর মারধরের অভিযোগ, পরিবারের করা লিখিত অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে বাড়িতে হামলার দাবির বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় এসেছে।

আত্রাইয়ে শিক্ষার্থীকে মারধর, অভিযুক্ত শিক্ষক ও অধ্যক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আকরাম সরদার ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বক্তব্য জানতে তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ কারণে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের তদন্তের মধ্যে রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

অভিভাবকরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ দেওয়ার পর বাড়িতে হামলা এবং ভাতিজাকে মারধরের অভিযোগেরও তদন্ত চেয়েছেন তারা।