বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব সারা দেশে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব , রাজশাহী ও কুষ্টিয়ায় শিশুমৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের স্বাস্থ্যে গুরুতর সংকেত দেয়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বর্তমানে সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

বিশেষ করে রাজশাহী এবং কুষ্টিয়া জেলায় এই সংক্রমণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গত শনিবার (৪ এপ্রিল) একদিনেই এই দুই জেলায় হামের উপসর্গে মোট ৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সংক্রমণের হার গত সপ্তাহের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

বর্তমানে হাসপাতালে নতুন করে আরও ২৫ জন শিশু ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করছেন।

অন্যদিকে কুষ্টিয়া জেলায় পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন। সেখানে আরও ২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, ফলে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪-এ পৌঁছেছে।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনশ’রও বেশি শিশু জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এতে বোঝা যাচ্ছে যে, সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

শুধু রাজশাহী ও কুষ্টিয়াই নয়, বগুড়া, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন শত শত শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব একটি সম্ভাব্য মহামারির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই সংকট মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে সারা দেশে একযোগে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে।

রাজশাহীতে সিটি করপোরেশনের মজুত থাকা ৮ হাজার ডোজ টিকা ইপিআই কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে শিশুদের প্রদান করা হচ্ছে।

লক্ষ্য হলো দ্রুত সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক বায়ুবাহিত রোগ।

সময়মতো টিকা গ্রহণ না করলে এটি মারাত্মক জটিলতায় রূপ নিতে পারে। তাই শিশুদের নির্ধারিত বয়সে টিকা প্রদান এবং সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সচেতনতার অভাব এবং দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার কারণে মৃত্যুঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।

হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে উপচে পড়া ভিড় এবং স্বজনদের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সরকার টিকার সরবরাহ বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও মাঠপর্যায়ে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আজকের দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচির সফলতা এবং সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণই পারে এই সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে।

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং জনগণের সহযোগিতাই এই অদৃশ্য রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান শক্তি।

SEE MORE>>>https://ngnnews24.com/durgapur-fuel-oil-raid-illegal-storage-fine/

By Borsha