বগুড়া শুকনা মরিচ চাষRed and White Dynamic Forest Fires Breaking News Instagram Post - 1

বগুড়ার চরাঞ্চলে শুকনা মরিচের বাম্পার ফলন, কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি

বগুড়া যমুনা নদীবিধৌত চরাঞ্চলে এবারের রবি মৌসুমে শুকনা মরিচ চাষ দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
জেলার সারিয়াকান্দি, ধুনট, সোনাতলা ও গাবতলী উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে,
যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচ চাষে ভালো ফলন পাওয়া গেছে।
সময়মতো গাছ থেকে মরিচ সংগ্রহ শেষ হওয়ায় এখন পুরো চরাঞ্চলজুড়ে চলছে মরিচ শুকানো, বাছাই ও সংরক্ষণের ব্যস্ততা।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, গ্রোয়েন এলাকা, বাড়ির উঠান ও খোলা জায়গায় শত শত নারী শ্রমিক মরিচ শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তাদের দৈনিক মজুরি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।
চরাঞ্চলের হাট-বাজারে ইতোমধ্যে শুকনা মরিচ বিক্রির ধুম পড়েছে।
বিভিন্ন পাইকার ও ফুড প্রসেসিং কোম্পানির প্রতিনিধিরা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে মরিচ সংগ্রহ করছেন।
স্কয়ার, প্রাণ, বিডি ফুডসসহ ১০-১২টি বড় কোম্পানি এই অঞ্চলে মরিচ সংগ্রহে সক্রিয় রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারিয়াকান্দি, গাবতলী, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলায় এবার প্রায় ৭ হাজার ১০০ একর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে।
উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ১৭৬ টন শুকনা মরিচ।
কৃষি বিভাগ আশা করছে, এ বছর মোট বাজারমূল্য প্রায় ৩২৭ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

বগুড়া শুকনা মরিচ চাষ ,গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান ও নতুন গতি সঞ্চার।

এর মধ্যে শুধু সারিয়াকান্দি উপজেলাতেই প্রায় ১৭০ কোটি টাকার মরিচ বেচাকেনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি শুকনা মরিচ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে।
গত কয়েক দিনে মণপ্রতি দাম আরও কয়েক হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তুষ্টি বিরাজ করছে।
চাষাবাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা মরিচ চাষে খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা।
হাইব্রিড বীজের দাম কেজিপ্রতি ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলেও ভালো ফলনে প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ৯ মণ শুকনা মরিচ পাওয়া যাচ্ছে।
এতে কৃষকরা বিঘাপ্রতি গড়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, চরাঞ্চলের এই মরিচ চাষ এখন একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে।
ফুড কোম্পানিগুলো এখান থেকে মরিচ সংগ্রহ করে গুঁড়া করে প্যাকেটজাত করছে, যা পরে সারাদেশে বাজারজাত করা হচ্ছে।
ফলে স্থানীয় কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে বগুড়ার চরাঞ্চলে শুকনা মরিচ চাষ শুধু কৃষি উৎপাদনই বাড়ায়নি, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।

By Borsha