বগুড়ায় কাবিননামা জালিয়াতি মামলা

বগুড়ায় কাবিননামা জালিয়াতি মামলায় কাজী খলিলুরের জামিন নামঞ্জুর

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বগুড়ায় কাবিননামা জালিয়াতি মামলায় গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়ন কাজী অফিসের কাজী খলিলুর রহমানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বিয়ের মোহরানা পরিশোধ দেখিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে কাবিননামা তৈরির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁর জামিন আবেদন করা হয়েছিল।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত দায়রা জজ কৌশিক আহাম্মদ খোন্দকার হাজতি আসামি কাজী খলিলুর রহমানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। তিনি গাবতলী উপজেলার ধনঞ্জয় গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে।

কাবিননামা জালিয়াতি মামলায় বগুড়ার কাজীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর

তালাকের নোটিশের পর বগুড়ায় কাবিননামা জালিয়াতি মামলা

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গাবতলী উপজেলার স্বর্ধনকুটি আটাপাড়ার আসিফ ইকবালের মেয়ে সামিয়া খাতুনের সঙ্গে নস্কুরীপাড়ার মৃত উজ্জল মণ্ডলের ছেলে রায়হান মণ্ডলের বিয়ে হয়। রায়হান মালয়েশিয়া প্রবাসী। ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল মোবাইল ফোনে ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ টাকা এবং নগদ নাকফুল বাবদ ২ হাজার টাকা পরিশোধের কথা উল্লেখ করা হয়।

বিয়ের পর সামিয়া খাতুনের পরিবারের পক্ষ থেকে কাবিননামার নকল চাওয়া হলে জানানো হয়, বর দেশে এসে কাবিননামায় স্বাক্ষর করার পর নকল দেওয়া হবে। পরে ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর রায়হান চার মাসের ছুটিতে দেশে আসেন। দেশে থাকার সময় তিনি সামিয়ার সঙ্গে সংসার করেন। ছুটি শেষে তিনি আবার মালয়েশিয়ায় চলে যান।

আরও পড়ুন

রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে ট্রাক-মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে নিহত ২, হাসপাতালে আহত ৩

পরবর্তী সময়ে রায়হান তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেন। তালাকের নোটিশ পাওয়ার পর সামিয়ার বাবা কাজী অফিস থেকে বিয়ের কাবিননামার নকল সংগ্রহ করেন। সেখানে তিনি দেখতে পান, কাবিননামায় মোহরানা পরিশোধ করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, কাজী অফিসে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ওই কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে মোহরানা পরিশোধের তথ্য দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় সামিয়ার বাবা কাজী খলিলুর রহমান, রায়হান মণ্ডলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটিতে কাজী খলিলুর রহমানের জামিনের আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। এর আগে মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে কাবিননামা জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।

মামলাটি বাদীপক্ষে পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট শেখ রেজাউর রহমান মিন্টু।

বগুড়ায় কাবিননামা জালিয়াতি মামলায় আদালতের এই আদেশের পর কাজী খলিলুর রহমানের জামিন আবেদন আর মঞ্জুর হয়নি। মামলায় অভিযোগের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের বিষয়েও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।