নেশা ছাড়তে কারাগারে যেতে চাইলেন, পেলেন ৫ মাসের সাজা রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ব্যতিক্রমী এক ঘটনা ঘটেছে, দীর্ঘদিনের মাদকের নেশা ছাড়তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে কারাদণ্ড চেয়ে আবেদন করেন এক মাদকাসক্ত ব্যক্তি।Thank you for reading this post, don't forget to subscribe! টানা তিন দিন ইউএনও কার্যালয়ে ঘোরাঘুরির পর শেষ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে পাঁচ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি জহুরুল ইসলাম (৫০), তিনি গোদাগাড়ী উপজেলার জাহানাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আলাউদ্দিন। জানা গেছে, এর আগেও মাদক সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ছয় মাস কারাভোগ করেছিলেন। তবে কারামুক্তির পরও তিনি নেশা থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেননি। স্থানীয় সূত্র জানায়, জহুরুল ইসলাম নিজ থেকেই ইউএনও কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জানান, তিনি আর মাদক সেবন করতে চান না। কিন্তু কোনোভাবেই নিজের আসক্তি কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। তাই তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর অনুরোধ জানান। ইসরাত জাহান, যিনি একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। টানা তিন দিন ইউএনও কার্যালয়ে ঘোরাঘুরির পর নেশা ছাড়তে কারাদণ্ড প্রথম দিন তার বক্তব্য শুনে কর্মকর্তারা তাকে পরদিন আবার আসতে বলেন, যেন তার সিদ্ধান্তের আন্তরিকতা যাচাই করা যায়। পরদিনও তিনি একই আবেদন নিয়ে আসেন। তখনও তাকে ফেরত পাঠানো হয়। বুধবার তৃতীয় দিনের মতো তিনি আবার ইউএনও কার্যালয়ে হাজির হয়ে একই অনুরোধ জানান। এবার তার সঙ্গে পরিবারের একজন সদস্যও ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, জহুরুল ইসলাম কারাগারে থাকলে হয়তো নেশা থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাকে পাঁচ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার-এ পাঠানো হয়। গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। সংশোধনের ইচ্ছা থেকেই তিনি এমন আবেদন করেছেন। প্রশাসনের আশা, কারাভোগ শেষে তিনি নতুনভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। SEE MORE>>> Post navigation এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা আজ জামায়াত কর্মীর দরজায় কাফনের কাপড়-চিরকুট রেখে হত্যার হুমকি