গুরুদাসপুরে কুকুরের কামড়ে আহত শিশু

গুরুদাসপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে ৬ স্কুলশিশু আহত, হাসপাতালে ভ্যাকসিন

নাটোর জেলার গুরুদাসপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে একই দিনে ছয় স্কুল শিশু আহত হওয়ার ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের হামলাইকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিশুদের বুধবার হাসপাতালে এনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

আহত শিশুরা হলো সোহেল রানা (১০), সাগর (১১), মুহিত (১০), মেহেদী (১২), মুন্নাফ (১০) ও হাদী (১১)। তারা সবাই স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং নিয়মিত একসঙ্গে খেলাধুলা করে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বিদ্যালয়ের মাঠে কয়েকজন শিশু ব্যাডমিন্টন খেলছিল।

খেলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সোহেল রানা মাঠে থাকা একটি কুকুরের গায়ের ওপর পড়ে যায়।

এতে কুকুরটি হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং সোহেলকে কামড়ে আহত করে।

এরপর কুকুরটি ক্ষিপ্ত হয়ে আশপাশে থাকা আরও পাঁচ শিশুর ওপর হামলা চালায়। খুব অল্প সময়ের মধ্যে একে একে ছয়জনই কুকুরের কামড়ে আহত হয়।

গুরুদাসপুরে কুকুরের কামড়ে আহত শিশু ,ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীর পিটুনিতে কুকুর নিহত

শিশুদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে কুকুরটির মরদেহ পাশের নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

আহত শিশুদের স্বজনরা জানান, ঘটনার পর থেকে শিশুরা চরম আতঙ্কে রয়েছে।

অনেকেই ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারছে না এবং ভয় কাটিয়ে উঠতে সময় লাগছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, শিশুদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে—বিশেষ করে হাত, পা ও চোয়ালে কামড়ের ক্ষত রয়েছে।

ক্ষতস্থান দ্রুত পরিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। সময়মতো পূর্ণ ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণ করলে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এস এম আলমাস জানিয়েছেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে।

তিনি বলেন, কুকুর বা বিড়ালের কামড়কে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে পোষা প্রাণীকেও নিয়মিত টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।