মান্দায় মসজিদে হামলা

মান্দায় মসজিদের ভেতরে হাঁসুয়ার কোপে আহত মামুনুর রশিদের মৃত্যু

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

নওগাঁর জেলার মান্দায় মসজিদে হামলায় গুরুতর আহত মুসল্লি মামুনুর রশিদ মামুন (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত মামুনুর রশিদ মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের শামুকখোল গ্রামের মকছেদ আলী ওরফে কটার ছেলে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে ফজরের নামাজের সময় শামুকখোল গ্রামের একটি মসজিদে এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, একই গ্রামের মরহুম ফারাতুল্লাহ শাহের ছেলে ইসমাইল হোসেন মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লি মামুনুর রশিদকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন।

স্থানীয়রা আহত মামুনুর রশিদকে উদ্ধার করে প্রথমে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়।

মান্দার শামুকখোল গ্রামে মসজিদে হামলায় আহত মুসল্লি মামুনুর রশিদ

মান্দায় মসজিদে হামলায় মুসল্লির মৃত্যু, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয় বাসিন্দা সেকেন্দার আলী জানান, ফজরের নামাজ চলাকালে ইসমাইল হোসেন হাঁসুয়া হাতে মসজিদের বাইরে অবস্থান করছিলেন। নামাজ শেষ হওয়ার পর তিনি মসজিদের ভেতরে ঢুকে মামুনুর রশিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় হাঁসুয়ার আঘাতে মামুন গুরুতর আহত হন। পরে ইসমাইল মসজিদ থেকে পালিয়ে যান বলে জানান তিনি।

সেকেন্দার আলী অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে ইসমাইল হোসেন এর আগেও মামুনুর রশিদকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ইসমাইল হোসেন একজন মাদকাসক্ত।

শামুকখোল গ্রামের বাসিন্দা আলম হোসেনও ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় গত ২১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার ভাই আব্দুর রশিদকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল।

আলম হোসেনের অভিযোগ, ওই ঘটনায় পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তার দাবি, সে সময় ব্যবস্থা নেওয়া হলে মামুনুর রশিদের ওপর হামলার ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব হতো।

আরও পড়ুন

বগুড়ায় আবাসিক হোটেলে স্কুলছাত্রের মরদেহ , হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

মসজিদের ভেতরে ফজরের নামাজের পর একজন মুসল্লির ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর মামুনুর রশিদকে প্রথমে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছিল। যেহেতু চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহীতে মারা গেছেন, তাই লাশের ময়নাতদন্ত স্থানীয় রাজপাড়া থানায় হবে।

তিনি আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মামুনুর রশিদের মৃত্যুর পর ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্তের দিকে এগোচ্ছে। তবে হামলার পেছনের কারণ, পূর্বের অভিযোগ এবং পুলিশের কাছে করা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এর আগে ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছিল। এখন মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে।

মান্দায় মসজিদে হামলার ঘটনায় স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।