মান্দায় এডিপির অর্থ আত্মসাত

নওগাঁর মান্দায় এডিপির অর্থ হরিলুট, নামমাত্র প্রশিক্ষণে লাখ টাকা গায়েব

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

মান্দায় এডিপির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালাকে ঘিরে। এক দিনের ‘ওয়েব পোর্টাল হালনাগাদকরণ’ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ দাবি করেছেন, তারা নামমাত্র ভাতা ও দুপুরের খাবার পেয়েছেন।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের উপজেলা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৪র্থ পর্যায়ের প্রকল্পের আওতায় ‘ওয়েব পোর্টাল হালনাগাদকরণ’ বিষয়ে ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। প্রকল্পটির জন্য মোট ২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। প্রশিক্ষণে ট্রেইনারসহ প্রায় ৩০ জন অংশগ্রহণ করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, অর্থবছরের শেষ সময়ে জুন মাসে বরাদ্দ আসায় অর্থ তামাদি হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে তাড়াহুড়ো করে প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করে কাগজে-কলমে কাজ শেষ দেখানো হয়। গত ১ জুন ২০২৬ তারিখের ৯৭৩ নম্বর স্মারকের নির্দেশনা অনুযায়ী পিআইসি ও আরএফকিউ পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মান্দায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

মান্দায় এডিপির অর্থ আত্মসাত, উঠেছে নানা প্রশ্ন

অনুসন্ধানে অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজন জানান, প্রশিক্ষণের জন্য তাদের ভাতার পরিমাণ সম্পর্কে তারা জানতেন না। কয়েকজন সরকারি কর্মচারীর দাবি, দিনভর প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার পর তারা দুপুরের খাবারের পাশাপাশি ৫০০ টাকা করে ভাতা পেয়েছেন।

তাদের দাবি, প্যাকেট খাবার ও ভাতা বাবদ সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বরাদ্দের বাকি বড় একটি অংশের অর্থের বিষয়ে স্বচ্ছতা নেই। এ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, প্রশিক্ষণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তারা প্রত্যাশিত ভাতা পাননি। তাদের ভাষ্য, শুধু দুপুরের খাবার ও ৫০০ টাকা করে দেওয়ার মধ্যেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।

প্রকল্পের সভাপতি ও কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যুতের বক্তব্যেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি দাবি করেন, প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অফিস থেকে একদিন ফোন করে শুধু তার নাম জানতে চাওয়া হয়েছিল। এরপর প্রকল্প বা প্রশিক্ষণ বিষয়ে তাকে আর কিছু জানানো হয়নি।

আরও পড়ুন

পত্নীতলায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) আব্দুস ছালাম সংক্ষেপে জানান, ৩০ থেকে ৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

তবে প্রশিক্ষণে অনিয়ম কিংবা ভাতা না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী। তিনি বলেন, সবাইকে সম্মানী ভাতা ও দুপুরের খাবার দেওয়া হয়েছে। উপজেলার ৪১টি দপ্তরের মধ্যে ৩০টি দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভাতা না পাওয়ার অভিযোগকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্যের বিষয়ে ইউএনও আখতার জাহান সাথী বলেন, যারা ভাতা পাননি বলছেন, তারা মিথ্যা বলছেন। তবে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে কত টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণ জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

ফলে এক দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বরাদ্দ করা ২ লাখ টাকা কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের কত টাকা করে সম্মানী দেওয়া হয়েছে এবং খাবারসহ অন্যান্য খাতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে—এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশিক্ষণের প্রকৃত ব্যয় এবং বরাদ্দের অর্থের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। তাদের অভিযোগ, কাগজপত্রে ব্যয়ের হিসাব দেখিয়ে এডিপির অর্থ আত্মসাৎ করা হয়ে থাকতে পারে।

স্থানীয়দের পক্ষ থেকেও বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে। তাদের দাবি, প্রশিক্ষণ কর্মশালার বরাদ্দ, ব্যয়ের হিসাব, ভাউচার এবং অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া ভাতার বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনিয়মের কথা অস্বীকার করা হয়েছে। ইউএনওর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সবাইকে সম্মানী ভাতা ও দুপুরের খাবার দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, কয়েকজন অংশগ্রহণকারীর বক্তব্য এবং প্রকল্প সভাপতির বক্তব্যে প্রশিক্ষণ আয়োজন ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। এ কারণে প্রকল্পটির ২ লাখ টাকা বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মান্দায় এডিপির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পের বরাদ্দ ও ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে কোনো অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।