নওগাঁয় হামের প্রাদুর্ভাব, হাসপাতালে রোগীর চাপ বৃদ্ধি নওগাঁ জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রামক রোগ, বিশেষ করে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু রোগীদের ভিড় বাড়ছে। জ্বর, কাশি এবং ত্বকে লালচে র্যাশের মতো উপসর্গ নিয়ে অনেকেই চিকিৎসা নিতে আসছেন। এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করেছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ৪১ জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৮ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে নওগাঁ সদর, পোরশা, নিয়ামতপুর, সাপাহার, আত্রাই ও মান্দা উপজেলার বাসিন্দারা রয়েছেন। বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় রোগের বিস্তার তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। অন্যদিকে, নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে এবং অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। একই বিছানায় একাধিক রোগী থাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা। এছাড়া চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, শিশুদের হঠাৎ জ্বর, খিঁচুনি ও দুর্বলতা দেখা দিলে তারা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসছেন। তবে শয্যা ও চিকিৎসা সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেকেই পর্যাপ্ত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় সেবা দিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। তবুও তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে। ইতোমধ্যে একটি কেবিনকে আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন এলাকার আশপাশে ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিতরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সার্চিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, ঢাকায় বসবাসকারী নওগাঁ জেলার এক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং চালিয়ে যাচ্ছে এবং জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সবশেষে, তারা মনে করছে, দ্রুত পদক্ষেপ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।Thank you for reading this post, don't forget to subscribe! SEE MORE>>> Post navigation রাজশাহীতে অ্যাপোলো ইনফরমেশন সেন্টারের উদ্বোধন, রোগীদের জন্য সহজ চিকিৎসা সেবার নতুন দিগন্ত তিন বছরেও চালু হয়নি রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, রামেকে আইসিইউ সংকট তীব্র