রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু হয়নি: তিন বছর পেরিয়ে গেল রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু হয়নি শিশুদের জন্য নির্মিত বিশেষায়িত হাসপাতালটি তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি। ফলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে শিশু রোগীদের চাপ ক্রমেই বাড়ছে এবং আইসিইউ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজশাহী শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ ২০২২ সালের শেষ দিকে সম্পন্ন হয়। ২.৪৪ একর জমির ওপর নির্মিত এই হাসপাতালে মোট ২০০ শয্যা রয়েছে, যার মধ্যে ৫৬ শয্যা আইসিইউ হিসেবে নির্ধারিত। ২০১৫ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন পায় এবং তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ কোটি টাকা। পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ কোটি টাকায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের জুনে হাসপাতালটি চালু হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। হাসপাতাল চালুর ক্ষেত্রে মূল বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে জনবল কাঠামো অনুমোদন, প্রশাসনিক দায়িত্ব নির্ধারণ এবং পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার অনাগ্রহ। রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু হয়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠালেও রামেক হাসপাতাল কিংবা সিভিল সার্জনের কার্যালয় কেউই দায়িত্ব নিতে রাজি হয়নি। ফলে হাসপাতালটি এখনো কার্যকরভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে রামেক হাসপাতালে শিশু রোগীদের চাপ ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। এখানে শিশুদের জন্য ২০০ শয্যা থাকলেও এক হাজারেরও বেশি শিশু ভর্তি থাকে বিভিন্ন সময়। আইসিইউ শয্যা মাত্র ১২টি হওয়ায় গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক শিশুকে শয্যা না পেয়ে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে, এমনকি বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কুমার বিশ্বাস জানান, আইসিইউ শয্যার অভাবে গত ১৫ দিনে ২৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে অন্তত ৫৫ শিশু আইসিইউর জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৩৫ শিশুকে আইসিইউ শয্যার অভাবে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা ২০২২ সালের জুনে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ভবন হস্তান্তরের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করেছে। তবে এখনো প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দায়িত্ব হস্তান্তর সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে কিছু সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাসপাতালের দায়িত্ব নির্ধারণ ও জনবল কাঠামো অনুমোদন না হওয়ায় এটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত না আসায় হাসপাতালটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে। রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু হলে রামেক হাসপাতালের ওপর চাপ অনেকটাই কমে যেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের চিকিৎসা সংকট অব্যাহত রয়েছে, যা দ্রুত সমাধান না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। SEE MORE>>> Post navigation নওগাঁয় হামের প্রাদুর্ভাব, ৮ জন আক্রান্ত ও ৪১ জন উপসর্গে চিকিৎসাধীন বদলগাছীতে অবৈধ পুকুর খনন, ধ্বংসের মুখে শতবর্ষী কালী মন্দির