বগুড়ার আদমদীঘিতে সার মজুতের অভিযোগে ১৬৭৫ বস্তা সার জব্দ

বগুড়ার আদমদীঘিতে ১৬৭৫ বস্তা সার জব্দ, ডিলারের জেল-জরিমানা

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বগুড়ার আদমদীঘিতে সার মজুত করে কালোবাজারে বিক্রি ও পাচারের অভিযোগে এক ডিলারকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দুটি গুদাম থেকে ১ হাজার ৬৭৫ বস্তা সার জব্দ করে সিলগালা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার নসরতপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম এ জেল-জরিমানা করেন।

আদমদীঘির নসরতপুর বাজারে সার মজুতের গুদাম সিলগালা

আদমদীঘিতে সার মজুত, গুদাম সিলগালা ও ডিলারের জেল

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, চলতি রোপা আমন মৌসুমে আদমদীঘি উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স মঙ্গল চন্দ্র সাহা ও মেসার্স সচিব চন্দ্র নাহা নামে ডিলাররা ডিএপি, এমওপি ও ইউরিয়া সার তাদের চাঁপাপুরের গুদামে মজুত করেননি।

এর পরিবর্তে নসরতপুর বাজারে পৃথক দুটি গুদামে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব সার মজুত করে রাখা হয় বলে জানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তারা গুদাম দুটি ঘেরাও করে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল মহিত তালুকদার ও উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন।

আরও পড়ুন

নাতিকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ায় নানীকে পিটিয়ে হত্যা

খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে গুদাম দুটিতে অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান শেষে দুটি সার ডিলারের মালিক সচিব চন্দ্র সাহাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া পাচারের জন্য মজুত রাখা ১ হাজার ৬৭৫ বস্তা সার জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে সার রাখা দুটি গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের সময় আদমদীঘি উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সজল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জুয়েল রানা ও যুগ্ম আহ্বায়ক কোরবান আলীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, কৃষকদের মধ্যে সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে বিক্রি বা পাচার করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনায় কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

অভিযানে দুটি গুদাম সিলগালা করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সার জব্দ এবং ডিলারকে জেল-জরিমানা করায় বিষয়টি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে।